শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বিশেষ আলোচনা সভা
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম সিরাজূল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভাষা শিক্ষার বর্তমান চিত্র ও রবীন্দ্রনাথের দর্শন
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এস এম জি ফারুক। তিনি প্রথম আলোর একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ৭০% শিক্ষার্থী সঠিকভাবে বাংলা শিখছে, অন্যদিকে ৮০% শিক্ষার্থীর ইংরেজি শিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আগে চাই বাংলা ভাষার গাথুনী তারপরে ইংরেজি শিক্ষার পত্তন' এই উক্তি তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার প্রতি গভীর আহ্বান জানান।
মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ভাষার ভূমিকা
মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাইফুল হক ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, গণমাধ্যমে মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ভাষার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় পরিচয়
স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর ড. জহুরুল আলম তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা এবং জাতীয় পরিচয় গঠনে বাংলা ভাষার অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা চেতনা জাগ্রত রাখার আহ্বান
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর এ এস এম সিরাজুল হক মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।" শিক্ষার্থীদের ভাষা নিয়ে প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি।
মহান ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের স্মরণ এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অটুট রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। ইংরেজি বিভাগের প্রধান রেজিনা সুলতানার উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রক্টর হাসানুজ্জামান। এই আলোচনা সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করার প্রয়াস চালিয়েছে।
