বেরোবি রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদের চাকরিচ্যুতি: অনিয়ম তদন্তের অভিযোগে রাজনৈতিক চক্রান্ত
বেরোবি রেজিস্ট্রারের চাকরিচ্যুতি: অনিয়ম তদন্তে চক্রান্ত

বেরোবি রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদের চাকরিচ্যুতি: অনিয়ম তদন্তের অভিযোগে রাজনৈতিক চক্রান্ত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতে তাকে চাকরিচ্যুত করার তীব্র অভিযোগ এনেছেন। বুধবার দুপুরে রংপুর নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

অনিয়ম তদন্তের কারণে শত্রুতা ও চাকরিচ্যুতি

ড. হারুন-অর-রশীদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের জন্য তিনি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায়, কিছু মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামেন এবং তাকে সরাতে নানা অপতৎপরতা শুরু করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, বিএনপিপন্থি শিক্ষক, উপাচার্যসহ বহিরাগতরা একটি সভা করে রেজিস্ট্রার পদ থেকে তাকে সরানোর পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জানুয়ারি ছাত্রদলের নামে রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

নিয়োগ বাণিজ্য ও মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

ড. হারুন-অর-রশীদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জালসনদে চাকরি, এবং শহীদ আবু সাঈদের মামলাটি ধামাচাপা দিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তার চুক্তির মেয়াদের আগেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "যেহেতু আমি বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করছিলাম, তাই অনেকের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলাম। তাই আমাকে চুক্তির মেয়াদপূর্তির আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যদিও চুক্তিতে রেজিস্ট্রারকে যেকোনো সময় চাকরিচ্যুত করতে বাধ্যবাধকতা নেই।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যেহেতু আমি শহীদ আবু সাঈদের মামলার বাদী, তাই আমি পূর্ণমেয়াদ পেলে মামলার চার্জশিট ও বিচার কাজটি দ্রুত শুরু হতে পারতাম।"

দাবি ও সুপারিশ

সংবাদ সম্মেলনে ড. হারুন-অর-রশীদ নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করেন:

  • বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার কর্তৃক শহীদ আবু সাঈদের মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা।
  • গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
  • দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অনিয়ম অনুসন্ধানে উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে উচ্চতর পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং সে পর্যন্ত সব প্রকার নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজলসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।