শিক্ষামন্ত্রী মিলনের ঘোষণা: কারিকুলাম পর্যালোচনা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার অঙ্গীকার
নবনিযুক্ত শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, কারিকুলাম পর্যালোচনা করা হবে এবং একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষাব্যবস্থার আন্তর্জাতিকীকরণ ও সংস্কারের অঙ্গীকার
শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষা খাতে যে স্থবিরতা ও অনিয়ম ছিল, তা দূর করে একটি আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ন্যানোটেকনোলজি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার উভয় ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা গ্রহণযোগ্য হন।
দুর্নীতি বন্ধ ও শিক্ষকদের প্রতি বার্তা
বিগত সময়ের অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের আগে যখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন, তখন প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছিল এবং নকল প্রতিরোধে সফলতা অর্জিত হয়েছিল। এবারও শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয় এবং তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি দেশপ্রেম ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যা আগামীকাল বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
