ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কাদেরের অভিযোগ: হলে উঠতে গেলেই মব তৈরি করে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, অন্য সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী হলে উঠতে গেলেই শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মব তৈরি করে বাধা সৃষ্টি করে।
ফেসবুক পোস্টে অভিযোগের বিস্তারিত
শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে কাদের বলেন, "ছাত্রশিবির আবার তাদের পুরানা রাজনীতিতে ফিরে যাবে, করতে বাধ্য হবে। কারণ, তারা নিজেরাই ভালো করে জানে, বিগত দেড় বছরে তারা কী কী করেছে। তাদের কৃতকর্মের দরুণ তাদের পুরানা কৌশল অবলম্বন করতেই হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির ক্যাম্পাসগুলোতে একপ্রকার দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। হলগুলোতে নিজেদের কমিটি অব্যাহত রেখে ভবন প্রতিও কমিটি সচল রাখছে। বিপরীতে অন্য সংগঠনের হলে উঠতে গেলেই মব তৈরি করা হয়, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে রাত-বিরেতে এই কার্যক্রম চলে।
দখলদারিত্ব ও অনলাইন নোংরামি
কাদেরের মতে, ক্যাম্পাসগুলো এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনে নিজেদের লোক বসিয়ে তারা তাদের মাধ্যমে কার্য হাসিল করছে। অনলাইনে শিবিরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, "তাদের অনলাইনের নোংরামি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আর নারী হেনস্তার বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।"
তিনি যোগ করেন, এসব কারণেই শিবির নিজের ভেতরের ভয় থেকে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু লাভ নেই, কারণ এতোদিনে সবার পরিচয় প্রকাশিত হয়ে গেছে।
ভবিষ্যত কৌশল সম্পর্কে সতর্কতা
সর্বশেষে কাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শিবির এনসিপি এবং ছাত্রশক্তিকে ব্যবহার করে নিজেরা গোপনে থেকে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করবে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কথা হলো, এনসিপি কিংবা ছাত্রশক্তি আবার জেনেবুঝে ব্যবহার হবে কি না, বিপদে পড়বে কি না, সেটা তারাই ঠিক করবে।"
এই অভিযোগগুলি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। কাদেরের বক্তব্যে শিবিরের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, মব তৈরি এবং অনলাইন অপকর্মের মতো বিষয়গুলি উঠে এসেছে, যা শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও স্বাভাবিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
