হিসাববিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন
নগদ বাট্টা কাকে বলে?
ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দেনা-পাওনার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিক্রেতা ক্রেতাকে যে টাকা ছাড় দেয়, তা–ই নগদ বাট্টা। এই বাট্টা বিক্রেতার জন্য প্রদত্ত বাট্টা এবং ক্রেতার জন্য প্রাপ্ত বাট্টা হিসেবে গণ্য হয়। উভয় পক্ষ তাদের হিসাবের বইয়ে এই বাট্টা লিপিবদ্ধ করে থাকে। নগদ বাট্টা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেমেন্ট সম্পন্ন করার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়।
জাবেদাকে খতিয়ানের সহায়ক বই বলা হয় কেন?
যদিও জাবেদা সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে খতিয়ানকে নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল করতে জাবেদা অপরিহার্য। সরাসরি খতিয়ানে লিখতে গেলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, জাবেদা সেই ভুল কমিয়ে নির্ভুল খতিয়ান তৈরিতে সহায়তা করে বলে একে সহায়ক বই বলা হয়। জাবেদায় প্রতিটি লেনদেনের ক্রমানুসারে ডেবিট-ক্রেডিট উল্লেখ থাকে, যা খতিয়ান প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
জাবেদা কীভাবে ভবিষ্যৎ সূত্র হিসেবে কাজ করে?
জাবেদায় প্রতিটি লেনদেনের ডেবিট-ক্রেডিট পক্ষ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা তারিখ অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। কোনো আইনি জটিলতা বা হিসাব–সংক্রান্ত অমিল দেখা দিলে জাবেদা থেকে তথ্য খুঁজে বের করা যায়। এই প্রামাণ্য দলিলের গুণের কারণেই একে ভবিষ্যৎ সূত্র বা রেফারেন্স বলা হয়। এটি পরবর্তী সময়ে হিসাব নিরীক্ষা ও যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাধারণ জাবেদার নমুনা ছকে ঘর কয়টি ও কী কী?
সাধারণ জাবেদার ছকে মোট পাঁচটি ঘর থাকে। যথা—১. তারিখ, ২. বিবরণ, ৩. খতিয়ান পৃষ্ঠা (খ. পৃ.), ৪. ডেবিট টাকা এবং ৫. ক্রেডিট টাকা। এই ঘরগুলো ব্যবহার করে প্রতিটি লেনদেন সুশৃঙ্খলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
সাধারণ জাবেদার দুটি বৈশিষ্ট্য
নমুনা ছকের দুটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
- তারিখ: এখানে লেনদেনের বছর, মাস ও দিন ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়।
- বিবরণ: এখানে হিসাবের দুটি পক্ষ লেখা হয়; প্রথম লাইনে ডেবিট পক্ষ এবং দ্বিতীয় লাইনে একটু সরিয়ে ক্রেডিট পক্ষ লেখা হয়। এর ঠিক নিচেই লেনদেনটির সংক্ষিপ্ত কারণ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
জাবেদা কত প্রকার ও কী কী?
জাবেদা প্রধানত দুই প্রকার:
- বিশেষ জাবেদা: নির্দিষ্ট ধরনের লেনদেন (যেমন শুধু ধারে ক্রয়) লিপিবদ্ধ করার বই।
- প্রকৃত জাবেদা: যেসব লেনদেন বিশেষ জাবেদায় জায়গা পায় না, সেগুলো এখানে লেখা হয়। (সাধারণ জাবেদাও এর অন্তর্গত)।
খতিয়ান বলতে কী বোঝায়?
প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির হিসাব, যেমন: সম্পদ, দায়, মালিকানাস্বত্ব, আয়, ব্যয় ও লাভ-ক্ষতি হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। এসব হিসাবকে এককথায় খতিয়ান বলা হয়। খতিয়ান প্রতিটি হিসাবের পৃথক পাতা বা অ্যাকাউন্ট ধারণ করে।
জাবেদা ও খতিয়ানের পার্থক্য
জাবেদা ও খতিয়ান উভয়ই হিসাব চক্রের দুটি ধাপ। খতিয়ান জাবেদা অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যবহার উপযোগী। জাবেদা বই সংরক্ষণ ঐচ্ছিক হলেও খতিয়ান প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক। জাবেদা থেকে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এরপর খতিয়ানের উদ্বৃত্ত থেকে রেওয়ামিল প্রস্তুত করে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ সহজ হয়। জাবেদা ও খতিয়ান প্রস্তুতে ব্যবহৃত ছকের মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে। জাবেদায় শুধু লেনদেনের ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ শনাক্ত করা হয়। কিন্তু খতিয়ানে প্রতিটি হিসাবের মোট ডেবিট ও মোট ক্রেডিটের পার্থক্যকরণের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত নির্ণয় করা হয়।
খতিয়ানের শ্রেণিবিভাগ
খতিয়ান দুই প্রকার। যথা: সাধারণ খতিয়ান ও সহকারী খতিয়ান। নগদান হিসাব, মূলধন হিসাব, ক্রয় হিসাব, বিক্রয় হিসাব, আসবাবপত্র হিসাব, দেনাদার হিসাব, পাওনাদার হিসাব প্রভৃতি সাধারণ খতিয়ান। সাধারণ খতিয়ানের মধ্য থেকে শুধু দেনাদার ও পাওনাদার হিসাবদ্বয়কে মূল হিসাব নামে অভিহিত করা হয়। সাধারণ খতিয়ানের বাইরে প্রতিটি দেনাদার ও প্রতিটি পাওনাদারের জন্য স্বতন্ত্র খতিয়ান তৈরি করা হয়। প্রতিটি দেনাদার ও পাওনাদারের জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানকে সহকারী খতিয়ান বলা হয়।
মুহাম্মদ আলী, সিনিয়র শিক্ষক
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা



