রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মিত একটি দোতলা একাডেমিক ভবনে সিঁড়ি না থাকায় দ্বিতীয় তলাটি গত চার বছর ধরে সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এই ভবন নির্মাণে জেলা পরিষদ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করলেও ওপরের তলায় ওঠার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
ভবন নির্মাণের ইতিহাস
জানা গেছে, শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। তবে নির্মাণের সময় সিঁড়ি তৈরির কোনো পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নিচতলায় ক্লাস চললেও সিঁড়ি না থাকায় ওপরের তলার কক্ষগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় এই পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “সিঁড়ি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করায় দ্বিতীয় তলাটি অকেজো হয়ে আছে। বিভিন্ন দপ্তরে সিঁড়ি নির্মাণের জন্য আবেদন করেও দীর্ঘ চার বছরে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।”
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট এতটাই প্রকট যে, নিচতলায় একই কক্ষের ভেতরে বাঁশের চাটাই দিয়ে ভাগ করে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈত্র রায় ও অষ্টম শ্রেণির সবুজ মণ্ডল জানায়, নতুন ভবন থাকলেও কক্ষ ব্যবহার করতে না পারায় তাদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের অবস্থান
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে, অর্থ সংকটের কারণে সিঁড়ির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও কাজ অসম্পূর্ণ রেখে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



