ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুলস নেটওয়ার্ক: শিক্ষার নতুন দিগন্ত
ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুলস নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ইতিহাসে ব্রিটিশ কাউন্সিলের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৫১ সালে এই ভূখণ্ডে যাত্রা শুরু করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক অনন্য কারিগর হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে বর্তমানে তাদের ‘পার্টনার স্কুলস’ নেটওয়ার্ক দেশের মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পথচলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি এ দেশে পুনরায় তাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে তারা এ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশ্বমানের শিক্ষার দুয়ার উন্মোচন করে আসছে। প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুল বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬০টির বেশি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে কাজ করছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (স্কুলস, ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামিনেশনস) জুবায়ের নাঈম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান যেন কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে উদ্দেশ্যেই আমরা চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো বড় শহরগুলোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেও আমাদের পার্টনার স্কুল এবং সহযোগী কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করছি। এর মাধ্যমে আমরা যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক ডিগ্রিগুলো সরাসরি শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়ন ও তদারকি

‘পার্টনার স্কুলস’ মডেলটি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। ব্রিটিশ কাউন্সিল সরাসরি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং আধুনিক শিখনপদ্ধতি বাস্তবায়নে কাজ করে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের পাঠদানপদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলা হয়, যার সরাসরি সুফল পায় শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে জুবায়ের নাঈম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রথাগত মুখস্থনির্ভর পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক অনুসন্ধানমূলক শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা। ক্লাসরুমের শিক্ষার বাইরেও স্কুলে সুরক্ষা (সেফগার্ডিং) এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের ‘অনলাইন সাপোর্ট ফর স্কুলস’ (ওএসএস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিনা মূল্যে বিশ্বমানের রিসোর্স ও পেশাদার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষকেরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে অডিও, ভিডিও এবং আলোচনার মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে পারছেন। জুবায়ের নাঈম জানান, এসব উদ্যোগের ফলে সময়ের বাধা দূর হচ্ছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষকেরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের আরও প্রাণবন্ত ও নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারছেন।

ডিজিটাল রূপান্তর ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ

বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে ব্রিটিশ কাউন্সিল ডিজিটাল রিসোর্স এবং অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজে বৈশ্বিক তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারছে। জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার প্রচেষ্টা

ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক এই শিক্ষাকাঠামো শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করে দেয়। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের পার্টনার স্কুলস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থায় এক অনন্য উচ্চতা যোগ করেছে। দক্ষ, স্মার্ট ও বিশ্বনাগরিক তৈরিতে এই নেটওয়ার্ক একটি প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।