জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জবির অভিনব সিদ্ধান্ত: সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস
বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলা এবং সরকারের ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে একদিন অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে।
বিশেষ সভায় গৃহীত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
বুধবার (২২ এপ্রিল) উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৭তম বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভাটি আহ্বান করা হয় সরকারের নির্দেশনার আলোকে— গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে।
সভায় উপস্থিত সদস্যদের প্রস্তাব ও মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী সপ্তাহ থেকে সপ্তাহে একদিন, বৃহস্পতিবার অনলাইনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সবাইকে সচেতন হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
উপাচার্যের জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার সাশ্রয়ী করার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এ দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।"
উপাচার্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অচিরেই বৈশ্বিক এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তিনি প্রতিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ পরিস্থিতিতে একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশনা দেন।
পরিবহন খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রস্তাব
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করে বলেন, "অন্তত একদিন পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রাখা গেলে জ্বালানি ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব হবে।" এই প্রস্তাবটি সভায় ব্যাপকভাবে সমর্থন লাভ করে।
সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
এই ঐতিহাসিক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন ছাড়াও বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের পরিচালক, সব অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বহিঃসদস্যবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এবং গ্রন্থাগারিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সিদ্ধান্তটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শুধুমাত্র জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, বরং ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।



