বগুড়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: এমপির প্রতিনিধিদের সভা থেকে বের করে দেওয়া
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের দুই প্রতিনিধিকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি সভা চলাকালে বের করে দিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়ন পরিষদে, যেখানে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শাহিন সানি জানান, এমপি মোরশেদ মিল্টন তাকে এবং মহিলা দল নেত্রী সাবেক ইউপি সদস্য নিলুফার ইয়াসমিনকে আমরুল ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেন। গত মঙ্গলবার বিকালে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদের নিয়ে সভায় বসেন। কিন্তু এ সময় আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান রাজা দলবল নিয়ে তাদের মিটিং থেকে বের করে দেন। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সানি আরও দাবি করেন, এমপি তাদের প্রতিনিধি করায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি এমপি মোরশেদ মিল্টনকে অবহিত করা হয়েছে।
বিপরীত বক্তব্য ও দ্বন্দ্বের কারণ
অভিযোগের জবাবে আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে এমপির ভোট থেকে শুরু করে সব দায়িত্ব ইউনিয়ন বিএনপি পালন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যেক ইউনিয়নের দায়িত্ব সাধারণত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকরাই পেয়ে থাকেন; কিন্তু এই ইউনিয়নে শাজাহানপুর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শাহিন সানি এমপির প্রতিনিধির দায়িত্ব পেয়েছেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, "এতেও আপত্তি নেই; কিন্তু ঘটনার দিন বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড ভাগবাটোয়ারা করতে পরিষদে গেছেন সানি ও তার লোকজন। ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে দলীয় আলোচনা হওয়া উচিত ছিল দলীয় অফিসে, ইউনিয়ন পরিষদে নয়।" তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাকে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা জানালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং এরপর ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। পরে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে হট্টগোল হয়েছে বলে শোনা গেলেও, সেখানে মারামারি বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পুলিশের বক্তব্য
আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেন, মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, ওই সময় তিনি রোষানলের শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার সময়ই তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পরে পুলিশের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়ার শাজাহানপুর থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, হট্টগোলের খবর শোনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুইপক্ষকে শান্ত করতে সক্ষম হন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেছে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।



