সাজেকে শিক্ষার বেহাল চিত্র তুলে ধরায় নারী ক্রিয়েটর লাঞ্ছিত
সাজেকে শিক্ষার বেহাল চিত্র তুলে ধরায় নারী ক্রিয়েটর লাঞ্ছিত

রাঙামাটির সাজেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও বর্গা (ভাড়াটে) শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরায় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন মহলের বরাত দিয়ে এই অভিযোগ জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত অবহেলা ও বর্গা শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের মতো অনিয়ম ফেসবুকে ভিডিও আকারে প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রিতা চাকমা। তার ফেসবুক পেজে (রি জাং সি চাকমা) ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে যা উঠে আসে

ভুক্তভোগী রিতা চাকমা ভিডিওতে দেখান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি; এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে পাঠদান চলছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন অস্থায়ী বর্গা শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইরালের পরিণতি

ভিডিওটি ৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছেন, শেয়ার হয়েছে হাজারের বেশি। এরপরই রিতা চাকমার ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তী ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে এবং পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

সাজেক ইউনিয়নের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ার বাসিন্দা রিতা চাকমা বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন দুর্গম এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে বর্গা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। দুর্গমতার কারণে উপজেলা প্রশাসন বা শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করতে পারেন না। ভিডিও প্রকাশের পর আশপাশের গ্রাম থেকে একই ধরনের অভিযোগ আসছে। তিনি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শিক্ষা অফিসের ব্যাখ্যা

বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, সাজেক ইউনিয়নের অনেক বিদ্যালয় দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। বর্গা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত চার শিক্ষকের মধ্যে একজন রাঙামাটিতে সংযুক্ত, আরেকজন ২০১৯ সাল থেকে মামলায় বরখাস্ত। বর্তমানে দুই শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, ২০২২ সালের পর নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় উপজেলাজুড়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও দাবি

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহল থেকে দুর্গম এলাকায় শিক্ষার বাস্তবচিত্র তুলে ধরায় নারী ক্রিয়েটরের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।