চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পরীক্ষার্থীকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে ও হামলার ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা সবাই উপজেলার একটি স্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মামলা ও আটক
জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় আহত শাখাওয়াত হোসেন জিহানের বাবা মো. আলমগীর রোববার রাতে বাদী হয়ে থানায় মামলা নং-১৭ দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হামলার ঘটনা
পরীক্ষা চলাকালে ভুক্তভোগী শাখাওয়াত হোসেন জিহান এবং মুনায়েমকে উত্তরপত্র দেখানোর অনুরোধ করেন একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা কয়েকজন পরীক্ষার্থী। এসময় উত্তরপত্র না দেখানোয় পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই স্কুলের ১০/১২ জন পরীক্ষার্থী জিহান এবং মুনায়েমের উপর হামলা করে এবং ক্ষুর দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে অন্য সহপাঠীরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের অভিযান
জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, ‘রোববার এসএসসি পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে দুই পরীক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ৪ কিশোরকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকিদের আটকের অভিযান চলছে।’
আহতদের অবস্থা
প্রসঙ্গত, রোববার বারইয়ারহাট কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে দুই পরীক্ষার্থীকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে অন্য পরীক্ষার্থীরা। এতে আহত হন শাখাওয়াত হোসেন জিহান ও মুহাম্মদ মুনায়েম। জিহানের শরীরে ১৯ সেলাই ও মুনায়েমের শরীরে ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তারা বারইয়ারহাট এলাকার একটি স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।



