প্রশ্নপত্র ফাঁস: কেমব্রিজের আরেকটি গণিত পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নপত্র ফাঁসে কেমব্রিজের আরেকটি গণিত পরীক্ষা স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (সিআইই)-এর আরও একটি পরীক্ষা। ১৫ মে ২০২৬-এ এ লেভেল গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

ঘটনার বিবরণ

গতকাল বুধবার (১৩ মে ২০২৬) এক বিবৃতিতে সিআইই জানায়, ১২ মে অনুষ্ঠিত ‘গণিত পেপার ৩২ (৯৭০৯)’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সিআইই এই প্রশ্নপত্র চুরির ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে বলেছে, কিছু অপরাধী পরীক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও সিদ্ধান্ত

সিআইই বলেছে, ‘ঘটনার পর আমরা দ্রুত ও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছি। ২২ মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ এর আগে গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আরেকটি এ লেভেল গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর সেই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নতুন এ ঘটনায় চলতি মে-জুন সেশনে কেমব্রিজ পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

পরীক্ষা স্থগিতের কারণ

সিআইই জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার এবং পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ের অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে ১৫ মে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘গণিত পেপার ৩২ (৯৭০৯)’ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং নতুন তারিখ ২২ মের মধ্যে জানানো হবে। তবে ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ১১ আগস্ট অপরিবর্তিত থাকবে।

কেমব্রিজের পাকিস্তান কান্ট্রি ডিরেক্টর উজমা ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো শিক্ষার্থী যেন এ ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পরীক্ষার নিরপেক্ষতা ও ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১২ মে বিকেলে গণিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তারা অনলাইনে ঘুরে বেড়ানো একই প্রশ্নপত্র হাতে পান বলে দাবি করেন।

পূর্বের ঘটনা

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণিত (৯৭০৯/১২) কোডের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর সিআইই ওই পরীক্ষা বাতিল করেছিল। প্রশাসনিক জোন ৩ ও ৪-এর শিক্ষার্থীদের জন্য সেই পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত মূল্যায়নে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। চলমান পরীক্ষা সেশনে আরও কয়েকটি প্রশ্নপত্র আংশিক ফাঁস হওয়ার অভিযোগও উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (সিআইই) ফাঁস হওয়া এএস লেভেল গণিত পরীক্ষাটিও বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ জুন। গত ৩০ এপ্রিল কেমব্রিজ নিশ্চিত করে যে এএস লেভেল গণিতের একটি প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে ‘প্রিম্যাচিউরলি শেয়ার’ বা অনিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশ্নপত্রটি আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।