চবিতে উচ্চশিক্ষার ছুটিতে ১২৮ শিক্ষক, মেয়াদ শেষে ফেরেননি ১৮ জন
চবিতে উচ্চশিক্ষার ছুটিতে ১২৮ শিক্ষক, ফেরেননি ১৮

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১২৮ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ১৮ জনের ছুটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কয়েকজন ছুটির জন্য আবেদন করেছেন। আর কয়েকজন এখনো ছুটি বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করেননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া এই ১৮ জন শিক্ষকের ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় এসে পৌঁছেনি।

আগস্টে আরও ৪৪ শিক্ষকের ছুটি শেষ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসে আরও ৪৪ জন শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হবে। ছুটিতে থাকা ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ১১১ জন পিএইচডি, ৭ জন পোস্টডক্টরাল, ৬ জন মাস্টার্স, ২ জন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম এবং ২ জন কোনো ধরনের ডিগ্রি প্রোগ্রামে না থেকেও ছুটিতে রয়েছেন।

পদমর্যাদা ও বিভাগভিত্তিক চিত্র

পদমর্যাদা অনুযায়ী ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন অধ্যাপক, ৩৫ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৮ জন প্রভাষক। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১০ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৮ জন করে, রসায়ন ও অর্থনীতি বিভাগে ৭ জন করে, চারুকলা, ব্যবস্থাপনা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৬ জন করে এবং ফার্মেসি বিভাগে ৫ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জনের কম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছুটি শেষে ফিরে না আসা প্রসঙ্গে উদ্বেগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, ‘অনেকেই ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ফিরে আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বারবার ছুটির সময় বৃদ্ধি করেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও ব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইসকান্দর সিরাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক পিএইচডির জন্য বেতনসহ ৪ বছর ও বেতন ছাড়া আরও অতিরিক্ত ২ বছর ছুটি নিতে পারেন। এছাড়া ১ বছরের মাস্টার্সের জন্য ২ বছর এবং ২ বছরের মাস্টার্সের জন্য ৩ বছর ছুটি নিতে পারেন। বর্তমানে নিয়মের বাইরে কেউ ছুটিতে নেই। তবে যাদের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য আসেনি, এর মূল কারণ হতে পারে এটা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। আমাদের কাছে তাদের তথ্যটা এখনো আসেনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কারও ছুটি শেষ হয়, তাকে ১ মাসের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বেতন বন্ধ বা চাকরিচ্যুতও করা হয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখিয়েছি।’

উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘কারও ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরও যদি তিনি কর্মস্থলে না ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনের বাইরে গিয়ে ছুটিতে থাকার সুযোগ নেই।’