পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্রের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিও বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের ইনডেক্স নম্বর কর্তন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের পরিচয় ও সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন- বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার এবতেদায়ী বিভাগের প্রধান মো. আব্দুর রহমান এবং এবতেদায়ী শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ।
জাল সনদ প্রমাণ ও এমপিও বাতিলের কারণ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাদের এমপিও বাতিল এবং ইনডেক্স নম্বর কর্তন করা হয়েছে।
অর্থ ফেরত ও ফৌজদারি মামলার নির্দেশ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য ও প্রক্রিয়া
বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব বলেন, "দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
প্রেক্ষাপট ও কর্তৃপক্ষের কঠোরতা
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহার করে নিয়োগের অভিযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।



