শিশুদের জুতার মালা পরানোর ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের জুতার মালা পরানোর ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের পর গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ পরিয়ে শাস্তি দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে আজ থেকেই গোল সাহানারার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে।

ঘটনার বিবরণ

ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা তাঁর বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন এবং চতুর্থ শ্রেণির দুজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় চত্বরের গাছ থেকে দুটি করে আম (কাঁচা আম) পাড়ার জন্য শাস্তি হিসেবে চারটি করে বেত্রাঘাত করেন। এ ছাড়া ২৯ এপ্রিল শ্রেণিকক্ষে নিজে শিক্ষার্থীদের জুতার মালা পরান এবং পিঠে ‘আম চোর’ স্টিকার লাগিয়ে ক্লাসে ও বারান্দায় ঘোরানোর খবর প্রথমে এলাকায় এবং পরে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট ও এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙখলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮–এর বিধি ১২ (১) উপবিধি মোতাবেক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ঘটনা তদন্তে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ছাড়া আজ বুধবার আমি নিজেও সরেজমিনে বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা নিজেও তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত এবং জুতার মালা ও “আমচোর” লেখা প্লাকার্ড গলায় ঝোলানোর কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল।’