বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের জীবনাবসান, ভৈরবে শিক্ষা বিস্তারের পথিকৃৎ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শিক্ষা বিস্তারের পথিকৃৎ ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে ভৈরব এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।
জীবনের শেষ সময় ও পারিবারিক অবস্থা
মৃত্যুর সময় রফিকুল ইসলামের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন, যারা তাঁর উত্তরাধিকার বহন করছেন। তাঁর বাড়ি ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর রমজান আলী মিয়ার বাড়িতে অবস্থিত। আজ বাদ আসর রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা শেষে দাফন করার কথা রয়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য একটি শোকসভায় পরিণত হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও শিক্ষায় অবদান
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যা তাঁর ছাত্রজীবনের সক্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রতিফলন।
ভৈরব এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে রফিকুল ইসলামের অবদান অপরিসীম। ১৯৮৭ সালে তিনি নিজের দুই একর জায়গার ওপর নিজের নামে রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষালয় হিসেবে পরিচিত। এর আগে ১৯৮২ সালে তিনি দাদা-দাদির নামে ফাতেমা রমজান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে।
পরবর্তীতে তিনি হালিমা সাদিয়া মাদ্রাসা নামে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ভৈরবের একাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে, যা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে।
সামাজিক অবদান ও স্বীকৃতি
রফিকুল ইসলামের হাত ধরে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়, যা তাঁর ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারক মনোভাবের পরিচয় দেয়। রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "রফিকুল ইসলাম একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাব্রতী ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিক্ষা বিস্তারে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল তাঁর, যা এলাকার উন্নয়নে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
তাঁর মৃত্যু কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং শিক্ষা বিস্তারের কাজকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



