শিক্ষামন্ত্রী মিলনের কুমিল্লায় মতবিনিময়: নকলমুক্ত শিক্ষার আহ্বান ও শিক্ষকদের ভূমিকা
শিক্ষামন্ত্রী মিলনের কুমিল্লায় মতবিনিময়: নকলমুক্ত শিক্ষার আহ্বান

কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময়: নকলমুক্ত শিক্ষার পথে শিক্ষকদের ভূমিকা জোরদার

কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকার উপর জোর দেন।

নকলের ইতিহাস ও শিক্ষকদের সহযোগিতা

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নকলের জন্মতারিখ ১৯৭২ সাল এবং ২০০১ সালে এটি সমূলে উৎপাটন করা হয়। তিনি বলেন, ‘৭২ থেকে ২০০১ সাল—এই নকলের সহযোগিতা কারা করেছিল? নিশ্চয়ই শিক্ষকেরা। আবার ২০০১ সালে যখন আমি নকলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলাম, তখন নকল সমূলে উৎপাটন করেছিল শিক্ষকেরাই।’ মন্ত্রী আরও যোগ করেন, যদি মন্ত্রণালয় ও সরকার নকল চায় না এবং গুণগত পরিবর্তন চায়, তাহলে শিক্ষকদের সহায়তায় নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।

শিক্ষকদের অবদান ও সরকারের ভূমিকা

নকল বন্ধে শিক্ষকদের অতীত অবদানের কথা স্মরণ করে মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ আমি কোনো শিক্ষককে আমদানি করিনি। আপনারাই এই দেশ থেকে নকল বন্ধ করেছিলেন। ২০০৬-এর পর আমরা আবারও ফিরে গেলাম সেই পুরোনো নকল যুগে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকরা সরকারের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেন এবং বর্তমান সরকারের সাথে থেকে আবারও দেশকে নকলমুক্ত করা সম্ভব।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ইবাদতখানা হিসেবে দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইবাদতখানা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য ইবাদতখানা। তাহলে বুঝতে হবে সেখানে আপনি নাপাক হয়ে ঢুকতে পারবেন না।’ তিনি শিক্ষকদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার গুরুত্ব

বিএনপির এজেন্ডা নিয়ে মন্তব্য করে মিলন বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে একমাত্র মন্ত্রণালয় হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’ তিনি শিক্ষকদের সাদকায়ে জারিয়ার কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে একজন শিক্ষক ছাত্রকে পড়াশোনা শেখানো ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখেন।

সভার আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীবৃন্দ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা। সভাটি সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রী দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছান।

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন:

  • কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম
  • কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন
  • কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান
  • কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)

এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির আহমেদ।

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য কুমিল্লার শিক্ষা পরিবেশে নকলমুক্ত পরীক্ষা ও গুণগত শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।