অভাব ও বিয়ের চাপ জয় করে এসএসসি পাস তামান্নার, লক্ষ্য এখন আদর্শ শিক্ষক হওয়া
রাজশাহীর মোসা. তামান্না খাতুন ২০২৫ সালে রাজশাহী আলোর পাঠশালা থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পারিবারিক অভাব-অনটন এবং বিয়ের সামাজিক চাপকেও উপেক্ষা করে পড়াশোনার প্রতি তার অদম্য স্পৃহা সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের জীবন
শহরে বেড়ে উঠলেও আর্থিক সংকটের কারণে তামান্নার ছোটবেলা থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এই সংগ্রাম তীব্রতর হয়। ঠিক যখন তিনি এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পারিবারিক পছন্দে তার বিয়ে হয়ে যায়। অনেকের ধারণা ছিল, হয়তো এখানেই তার শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটবে। শ্বশুরবাড়িতেও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ছিল না বললেই চলে।
আলোর পাঠশালার ভূমিকা ও দৃঢ় সংকল্প
তবে তামান্না নিজের স্বপ্নকে মরতে দেননি। নিজের বুদ্ধি, ধৈর্য এবং কৌশলের মাধ্যমে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। তার এই কঠিন যাত্রায় আলোর দিশা হয়ে পাশে দাঁড়ায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহীর আলোর পাঠশালা। প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষার সুযোগই দেয়নি, বরং দিয়েছে স্বপ্ন দেখার সাহস এবং শিক্ষকরা দিয়েছেন নিরন্তর অনুপ্রেরণা।
উচ্চতর শিক্ষার লক্ষ্য ও সমাজ পরিবর্তনের বিশ্বাস
সকল বাধা অতিক্রম করে তামান্না সফলভাবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এখন উচ্চতর শিক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, শিক্ষা মানুষকে বদলে দেয় এবং সমাজকে আলোকিত করে। তামান্না বলেন, 'আমার স্বপ্ন একজন শিক্ষক হওয়া। আমি চাই বাচ্চাদের মাঝে পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি করতে। আর যদি শিক্ষক হতে না-ও পারি, অন্তত একজন শিক্ষিত মা হয়ে আমার সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলব।'
তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তামান্নার গল্প প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প ও উপযুক্ত সহায়তা পেলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।



