পাবনার বেড়ায় গাছতলায় বেঞ্চ পেতে অনুষ্ঠিত হলো ১৪তম বিতর্ক প্রতিযোগিতা
পাবনার বেড়া উপজেলায় একটি ব্যতিক্রমী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুর্কবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেড়া পৌরসভার আলহেরানগরে শিক্ষক ওমর সরকারের বাড়ির গাছতলায় বেঞ্চ পেতে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন হয়। জমকালো হলরুম বা বড় মঞ্চের পরিবর্তে, গাছের ছায়ায় বসে যুক্তির লড়াইয়ে মেতে ওঠে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকের নিষ্ঠায় গড়ে ওঠা বিতর্ক চর্চাকেন্দ্র
ওমর সরকার পাবনার বেড়া উপজেলার আলহেরা একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষক। তিনি ২০০৮ সালে বেড়া বিতর্ক চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন। এবার অনুষ্ঠিত হলো এই কেন্দ্রের ১৪তম আসর। প্রতিযোগিতার বেশির ভাগ সময় গাছতলার ছায়ায় অনুষ্ঠিত হলেও, দুই-এক দিন রোদের কারণে তাঁর টিনের ঘরেও বসতে হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের।
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো না থাকলেও শিক্ষার্থীদের অদম্য আগ্রহ এবং শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ওমর সরকার বলেন, "বিতর্ক মানে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি চিন্তা করার একটি চর্চা। আমি চাই, আমাদের গ্রামের শিক্ষার্থীরাও যেন যুক্তি দিয়ে নিজেদের কথা বলতে পারে।"
প্রতিযোগিতার বিস্তারিত ও অংশগ্রহণ
এবারের প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রতি দলে চারজন করে শিক্ষার্থী নিয়ে মোট চারটি গ্রুপ গঠন করা হয়। প্রতিযোগিতার ধাপগুলো ছিল নিম্নরূপ:
- প্রথম রাউন্ডে লিগ পদ্ধতিতে মোট ৯টি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
- এরপর নকআউট পদ্ধতিতে সেমিফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- সবশেষে আজ ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বিজয়ীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিচারক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক এবং বেড়া বিতর্ক চর্চাকেন্দ্রের প্রাক্তন কৃতী বিতার্কিকরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াসিউল হাসান সরকার, খসরু আহসান, রাহাত জামান, এবং রাফিয়া জামান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, "আমরা যারা আজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্ক করছি, আমাদের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছে এই গাছতলার আসর থেকেই।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিয়া জামান যোগ করেন, "ওমর স্যার নিঃস্বার্থভাবে আমাদের এলাকায় বিতর্কচর্চার একটি শক্ত পরিবেশ তৈরি করেছেন। এই চর্চাই আমাদের জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সাহস জুগিয়েছে।" অংশগ্রহণকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিফা সরকার সাওদা বলেন, "প্রথমে খুব ভয় লাগত,但现在 নিজের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি। স্যারের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।"
সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বেড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন যে, ওমর সরকার কোনো আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ ও মননশীলতা গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তাঁর বাড়ির সেই সাধারণ উঠান আজ জ্ঞানচর্চা ও যুক্তির এক ব্যতিক্রমী মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এই উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



