রাজপুত্র ও রাখালের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের গল্প
অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে এক রাজা বাস করতেন। রাজার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই রাজ্যের এক রাখাল ছেলের সঙ্গে রাজপুত্রের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। দুই বন্ধু পরস্পরকে অত্যন্ত ভালোবাসত। রাখাল প্রতিদিন মাঠে গরু চরাত, আর রাজপুত্র গাছের ছায়ায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করত। নিঝুম দুপুরে রাখাল মিষ্টি সুরে বাঁশি বাজাত। রাজপুত্র তার পাশে বসে সেই সুর শুনে আনন্দে মগ্ন হত। বন্ধুর জন্য বাঁশি বাজিয়ে রাখাল অফুরন্ত সুখ পেত। আর সেই সুর শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে নেচে উঠত। রাজপুত্র বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল, বড় হয়ে রাজা হলে সে রাখালকে তার মন্ত্রী বানাবে।
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতার মূলভাব
‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষক হলেন সেই জাতির কান্ডারি। নীরবে ও নিভৃতে শিক্ষক তাঁর আদর্শ দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। সমাজ ও দেশের জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম। তাই সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সবার ওপরে। বাদশাহ আলমগীর উপলব্ধি করেছিলেন, যে ছাত্র শিক্ষককে যথাযথ মর্যাদা দিতে জানে না, সে কখনোই পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য উপযোগী মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।
হাতির অহংকারী আচরণের মূলভাব
হাতিটি বনের রাজার মতো আচরণ করতে শুরু করেছিল। শক্তিধর সিংহ ও হালুম বাঘ মামাও তার কাছে যেতে ভয় পেত। বনের সব প্রাণী ভয়ে তটস্থ ছিল। একদিন হাতিটি একটি নিরীহ হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে দূরে ছুড়ে ফেলল। আরেকবার একটি ছোট্ট খরগোশকে পায়ের তলায় পিষে ফেলল। সেই ঘটনার পর থেকে বনের কোনো প্রাণীই হাতির ছায়া মাড়াতে সাহস পেত না। দিনে দিনে হাতিটি আরও অহংকারী হয়ে উঠেছিল, আর বনের প্রাণীরা ভয়ে শঙ্কিত ছিল।
জগদীশচন্দ্র বসুর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মূলভাব
জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তিনি নানা বিষয়ে গভীর গবেষণা চালিয়েছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র সরলা সৃষ্টি আবিষ্কার করেন, যা বেতার তরঙ্গ হিসেবে পরিচিত। এই আবিষ্কার আজকের সেতার, টেলিভিশন, রাডার এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা তাঁর পরীক্ষণ দেখে চমকে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের কল্যাণের জন্য তিনি বিদেশে না থেকে নিজ দেশেই ফিরে এসেছিলেন।
জেলের বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দৈত্যকে পরাজিত করার মূলভাব
দৈত্যের কথা শুনে জেলে ভয় পেলেও, সে সাহস হারায়নি। জেলে কৌশল করে দৈত্যকে বোঝাল যে, তার মতো বিশাল দেহ কীভাবে ছোট্ট জালার ভেতরে ছিল, তা সে বিশ্বাস করতে পারছে না। দৈত্য রেগে গিয়ে প্রমাণ করার জন্য ধোঁয়া হয়ে আবার জালার ভেতরে ঢুকে পড়ল। তখন জেলে দ্রুত জালার মুখে ঢাকনা লাগিয়ে দিল। বুদ্ধির জোরে জেলে নিজের প্রাণ রক্ষা করল।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
এই নমুনাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য মূলভাব লিখনের অনুশীলনে সহায়ক হবে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পাঠ্যবই ও নোটিশ বোর্ডের তথ্য অনুসরণ করা উচিত।



