শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের জন্য অনুদানের আবেদনের সময়সীমা বাড়ল, এখন ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানের আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছে। আগে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১৭ মার্চ, কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সংশোধিত নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে, যা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুদানের উৎস ও উদ্দেশ্য
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালন বাজেট থেকে এই অনুদান প্রদান করা হবে। দেশের সব স্বীকৃত বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, এই সুবিধা পেতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ক্রয়, পাঠাগার স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবে। বিশেষ করে অনগ্রসর এলাকার কিন্তু ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি এবং দৈব দুর্ঘটনার জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুরারোগ্য ব্যাধি, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষা ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। এই সুবিধায় দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, গরিব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নীতির প্রতিফলন ঘটায়।
আবেদনের পদ্ধতি ও শর্তাবলি
আবেদন করতে হবে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনের মাধ্যমে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা রেজিস্ট্রারকে মাইগভে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, যেখানে ব্যানবেইসের সর্বশেষ বার্ষিক শিক্ষা জরিপ-২০২৫-এ দেওয়া মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠান নম্বর দিয়ে প্রোফাইল যাচাই করে হোম পেজের ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ অংশ থেকে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদানের অর্থ সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে, অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে, তবে এজেন্ট বা মার্চেন্ট নম্বর গ্রহণযোগ্য নয়।
সুবিধার মেয়াদ ও যাচাই প্রক্রিয়া
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সুবিধা শুধুমাত্র একবারই পাবেন; আগে পেয়ে থাকলে আর আবেদন করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করবে। জেলা পর্যায়ে গঠিত একটি কমিটি আবেদনগুলো যাচাই করে ৬ মে ২০২৬-এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। অসম্পূর্ণ আবেদন বা কাগজের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, তাই আবেদনকারীদের সঠিকভাবে তথ্য প্রদান করতে হবে। নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবে।
এই উদ্যোগটি শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



