মাধ্যমিক স্কুলে লটারি পদ্ধতির ভর্তি বাতিল, নতুন নির্দেশনা জারি
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনবে।
নতুন ভর্তি পদ্ধতির মূল বিষয়বস্তু
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই লটারি পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। অংশীজনদের মধ্যে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় কমিউনিটি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরোনো নীতিমালা বাতিল ও সময়সীমা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনায় ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর এবং ১৯ নভেম্বর তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারি করা সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালার দুটি দলিলও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরোনো ভর্তি পদ্ধতির সকল আইনগত ভিত্তি অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া
এর আগে সোমবার বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত একটি ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরাসরি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আগামী বছর থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমে লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণ বেড়ে যেতে পারে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও সমালোচনা
অভিভাবক ঐক্য ফোরাম নামক একটি সংগঠন তাদের এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শিক্ষামন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক ও দ্রুত ঘোষণার ফলে ভর্তি কোচিং বাণিজ্য আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে এবং মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ভর্তি বাণিজ্য পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কোনওভাবেই নামকরা ও প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোর ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হবে না, বরং নতুন পদ্ধতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলবে।
এই পরিবর্তনটি দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে এর সফল বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ ও নির্দেশনা এই সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
