বেসরকারি স্কুল-কলেজে নিয়োগে বড় পরিবর্তন: শীর্ষ পদে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নীতিমালায় যুগান্তকারী পরিবর্তন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪’ রিভিউ–সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে রাতেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার বিস্তারিত

এর আগে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। নতুন সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ বা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্ত হিসেবে কর্মরত অথবা এমপিওভুক্ত হিসেবে ডিগ্রি কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ বা স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তিন বছরের ভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে সর্বমোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই পরিবর্তনটি শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এনটিআরসিএর ভূমিকা ও প্রক্রিয়া

এবারই প্রথম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। গত ২৯ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্য পদে নিয়োগের পরীক্ষা দিতে এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে।

গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা এক পরিপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দেয়। এর আগে, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন ও ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগ সুপারিশ করছে এনটিআরসিএ।

পরিবর্তনের প্রভাব ও গুরুত্ব

এই নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা খাতের সংস্কারের দিকে একটি অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।