এমপিও নীতিমালায় যুগান্তকারী পরিবর্তন: শীর্ষ পদে নিয়োগে ১৮ বছর অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও (ম্যানপাওয়ার পুল অর্ডার) নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের শীর্ষ পদে—অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক—নিয়োগ পেতে এখন থেকে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই পরিবর্তন শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকালে জনবল কাঠামো সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অভিজ্ঞতার শর্ত বৃদ্ধি
কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আগে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সরকার-সমর্থিত একজন সংসদ সদস্য ও বেসরকারি শিক্ষক নেতাদের আপত্তির মুখে সরকার এ বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমেই হবে, তবে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানো হয়েছে।
আগে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হলে তুলনামূলকভাবে জুনিয়র শিক্ষকরা এগিয়ে যেতে পারেন—এমন ধারণা থেকেই অভিজ্ঞতার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে পরিপক্কতা ও স্থিতিশীলতা আনতে চায় সরকার।
শিক্ষা খাতে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই পরিবর্তন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা বাড়ানো হলে শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত হবে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে কিছু শিক্ষক নেতা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি জুনিয়র শিক্ষকদের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও নতুন শর্তাবলী শিক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে ভূমিকা রাখবে।
