শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সভাপতির যোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পাঁয়তারা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’
রাজশাহীতে ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যত ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর সভাপতি হতে কোনও ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সভাপতি হতে অন্তত স্নাতক পাস কাউকে আসতে হবে। সেটা বাদ দিয়ে বিএনপি যখন এই সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা মনে করি বিএনপি একইভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে বাংলাদেশের অগ্রগতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছে।’
শিক্ষার মান ধ্বংসের অভিযোগ
এনসিপি নেতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষার মান এবং কোয়ালিটিকে ধ্বংস করে দিয়ে স্বৈরাচার কায়েম করেছিল; বিএনপি যদি একই প্রক্রিয়ায় মুখে “সবার আগে বাংলাদেশ” আর কাজের সময় কোনও মানের দরকার নাই, যোগ্যতার দরকার নাই; এই প্রক্রিয়ায় যেতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আগামীতে তাদেরকে প্রত্যাখান করবে।’
সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আহ্বান করবো- আপনারা প্রয়োজনে যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষদেরকে আপনাদের কমিটিতে নিয়ে আসুন; অথবা রাজনীতিতে যারা আছে তাদেরকে যোগ্যতাসম্পন্ন করে তুলুন। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আর কোনও ধরনের পাঁয়তারা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
ইফতারের আগে এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:
- এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
- মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন
- রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল
- মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক
এই অনুষ্ঠানটি রাজশাহী অঞ্চলের রাজনৈতিক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে যোগ্যতার বিষয়টি এখন জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
