বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান পদে ৮৬ হাজার আবেদন, এমসিকিউ পদ্ধতির সংস্কার দাবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার এবং সহকারী সুপার পদে মোট ৮৬,৪৪৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আসন্ন নিয়োগের জন্য ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সহকারী সুপার পর্যন্ত সকল পদে নির্বাচন করা হবে। তবে, বর্তমান এমসিকিউ পদ্ধতির পরীক্ষায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
এমসিকিউ পরীক্ষার ব্যাপ্তি বৃদ্ধির প্রস্তাব
দেশের বাস্তবতায় দীর্ঘ লিখিত বা এককথায় উত্তর লেখার পরীক্ষা আয়োজন করা সময়সাপেক্ষ ও জনবলসাপেক্ষ হয়ে উঠছে। আবার, উচ্চ নম্বরের সাক্ষাৎকারে স্বজনপ্রীতির ঝুঁকিও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ এমসিকিউ পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে, যা একটি বাস্তবতা। তবে, এই দুরাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আসন্ন নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপাতত কিছু যুক্তিসংগত সংস্কার জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, প্রার্থীদের বিভিন্নমুখী আবশ্যকীয় যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বর্তমান এমসিকিউ পরীক্ষার ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বর্তমানে ১ ঘণ্টায় ৮০টি প্রশ্নের পরিবর্তে ২ ঘণ্টায় ১৬০টি প্রশ্ন রাখা সম্ভব, যা পরে ৮০ নম্বরে রূপান্তর করা যাবে। অধিক যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীরা এই পরিবর্তনে সম্মত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মেশিন রিডেবল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম বা অর্থ ব্যয় হবে না। সাধারণ শিক্ষক নিয়োগের ১৯তম নিবন্ধনে যদি ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে কেন মাত্র ৮০ নম্বরের পরীক্ষা হবে? এই প্রশ্নটি উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
নেগেটিভ মার্কিং বৃদ্ধির আহ্বান
লটারি-নির্ভর ফলাফল হ্রাস করার জন্য নেগেটিভ মার্ক বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুল উত্তরে মাত্র ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হয়, যা অনুমাননির্ভর ফলাফল বাড়িয়ে তোলে। একজন প্রার্থী যদি কিছুই না জেনে লটারি করে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ১টি শুদ্ধ ও ৩টি ভুল হয়, তাহলে তাঁর ০.২৫ নম্বর থাকবে। কিন্তু যদি ২টি শুদ্ধ ও ২টি ভুল হয়, তবে ১.৫০ নম্বর পাবেন। এই পদ্ধতিতে, মাত্র ৪০ নম্বরের শুদ্ধ উত্তর জেনে একজন প্রার্থী ৫৫ নম্বর পর্যন্ত পেতে পারেন, যা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা কাঁচা জ্ঞানের শিক্ষার্থী নন; বরং পাকা জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অধিকারী। তাই, প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরে ১.০০ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরে ১.০০ নম্বর কাটা যাওয়া উচিত। এই ব্যবস্থায় অনুমান করে উত্তর দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিশ্চিত অধিক যোগ্য প্রার্থীরা প্রকৃত ফলাফলে এগিয়ে থাকবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সিদ্ধান্তহীনতা না থাকা এবং পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী হওয়া অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
বিভিন্ন কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের টিকে থাকা ও ভালো করার চ্যালেঞ্জ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। তড়িঘড়ি করে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নে যদি তুলনামূলক কম মেধাবী বা কম যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ পান এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যর্থ হন, তাহলে এনটিআরসিএর নিকট থেকে নিয়োগক্ষমতা আবার জনপ্রতিনিধিরা নিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সার্বিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বাধিক যোগ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচন নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।
লেখক মো. রহমত উল্লাহ্, সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিষয়ক লেখক, এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দ্রুত এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে এবং আসন্ন নিয়োগে যুক্তিসংগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
