রাজশাহীতে ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন: শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে আলোচনা
রাজশাহীতে ‘শিখা’ প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন: নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিতে

রাজশাহীতে ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষাঙ্গনে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বুলিং ও যৌন হয়রানি মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসে ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের একটি ওরিয়েন্টেশন সভা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিরোধ ও সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সরকারি ও বেসরকারি স্থানসমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উপস্থিতি ও সভাপতিত্ব

সভাটি সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান। এতে গবেষণা কর্মকর্তা (শিক্ষা), নয়টি উপজেলার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, একাডেমিক সুপারভাইজার, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

‘শিখা’ প্রকল্পের বিস্তারিত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি ‘শিখা’ প্রকল্পটি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি জেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রতিরোধ ও সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। এর আওতায় রয়েছে পাবলিক স্থান, কর্মক্ষেত্র, পাবলিক পরিবহন, গার্মেন্টস কারখানা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় সম্প্রদায়।

খোলামেলা আলোচনা ও কৌশল

খোলামেলা আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, শিশুবিবাহ ও বুলিং মোকাবেলা, রিপোর্টিং ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং বিদ্যালয়গুলোকে সহিংসতামুক্ত কর্মক্ষেত্রে রূপান্তরের কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তারা বিদ্যালয়ের আশেপাশে শিক্ষার্থীদের চলাচলের রুটের জন্য ঝুঁকি মানচিত্র প্রস্তুতকরণ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সঞ্চালনা ও বক্তব্য

সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন টেকনিক্যাল অফিসার মিতা রানী সরকার, রোড সেফটি প্রতিনিধি পঙ্কজ কুমার বিশ্বাস, প্রকল্প অফিসার মোতালেব হোসেন ও আফরোজা খাতুন, কমিউনিটি ভলান্টিয়ার শাকিল আহমেদ, আহনাফ তাহমিদ ও সোহানুর রহমান এবং বিলাস্ট প্রতিনিধি সোমা ইসলাম।

প্রকল্পের সহযোগিতা ও উদ্দেশ্য

স্থানীয় সরকার সংস্থা, সুশীল সমাজের সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংগঠনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে মনোনিবেশ করেছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিরোধ ও সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সম্প্রদায় গঠনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ।