নাটোরে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা: তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
নাটোরে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, তদন্ত কমিটি গঠন

নাটোরে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা: তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

নাটোরের বড়াইগ্রামে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়ায় কলেজছাত্র বর্ণ রোজারিওর আত্মহত্যার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আত্মহত্যার ঘটনা ও বিক্ষোভ

মৃত বর্ণ রোজারিও (১৮) বড়াইগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিলেন। তিনি বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর মহল্লার বিপ্লব রোজারিওর ছোট ছেলে। কলেজ কর্তৃপক্ষ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর সহপাঠীরা। গত রোববার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে বর্ণ রোজারিওর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

বর্ণ রোজারিওর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা কলেজের মূল ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর করেন। রোববার সন্ধ্যায় তাঁরা বনপাড়া বাজারে নাটোর-পাবনা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে বাজারের দুই পাশেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাঁরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। পরে খবর পেয়ে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ও অভিযোগ

ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বর্ণ রোজারিওর সহপাঠীরা সোমবার দুপুরে ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে গণদরখাস্ত দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাঁরা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজে রোববার উচ্চমাধ্যমিকের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০০ জনই অকৃতকার্য হন। অকৃতকার্যদের মধ্যে বর্ণ রোজারিও নামের এক পরীক্ষার্থীসহ মোট ৩৮ পরীক্ষার্থীকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের অকৃতকার্য করে দিয়েছেন। পরে পুনঃপরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছেন। বর্ণ রোজারিওসহ ৩৮ জনকে চূড়ান্তভাবে অকৃতকার্য ঘোষণা হয়। এই হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শংকর ডমিনিক গমেজ বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। অকৃতকার্য করা বা স্থগিত রাখার বিষয়টি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করা। কারণ, এতে পরীক্ষার্থীরা আরও সচেতন হন; তাঁরা পড়ালেখায় মনোযোগী হবেন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলে অভিভাবকদের চেয়ে শিক্ষকেরাই বেশি বিব্রত হন।"

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস ছালাম জানান, কলেজছাত্রের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।