শিক্ষাঙ্গনকে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন কিশোর গ্যাং, মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে একদম জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং রাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা করা কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
কচুয়ায় মতবিনিময়ে শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, "রাতের বেলা অযাচিতভাবে কিশোরেরা ঘোরাফেরা করে। আমি নির্বাচনের সময় দেখেছি, সারা রাত কিশোরেরা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, কেন ঘুরছে, জিজ্ঞেস করলে তারা মব অ্যাটাক করে।" তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিশোরদের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে হবে এবং তাদের রাতের বেলা ঘোরাফেরার কারণ খতিয়ে দেখতে হবে।
নকলমুক্ত থেকে মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের প্রতিশ্রুতি
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নকলের মতো মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং মুক্ত হবে শিক্ষাঙ্গন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত যাত্রাও শুরু করা হবে। আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর বাংলাদেশ হবে। নকলমুক্ত যেভাবে কচুয়া থেকে শুরু হয়েছে, মাদকমুক্তও এই কচুয়া থেকে শুরু করা হবে।" এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত পরিবেশে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের (রাসেল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন:
- চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার
- পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান প্রমুখ
শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তিনি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংসদ সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কচুয়া উপজেলায় আগমন উপলক্ষে যাত্রাপথে এহছানুল হককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষাঙ্গন সুরক্ষায় সামগ্রিক উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রীর এই আহ্বান শিক্ষাঙ্গনকে অপরাধমুক্ত করতে একটি সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং, মাদক ও ইভটিজিং দমনে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
