শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন: নকল বিরোধী অতীত ও শিক্ষা সংস্কারের নতুন অঙ্গীকার
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতা আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যা তার জন্য প্রায় ২৫ বছর পর একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব। একই সঙ্গে তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নকল বিরোধী অতীত ও 'হেলিকপ্টার মিলন'
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি পরীক্ষায় নকল রোধে ব্যাপক তৎপরতা চালান, যা তাকে 'হেলিকপ্টার মিলন' হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তিনি নিজ হাতে নকল ধরতে পরীক্ষার কেন্দ্রে গোপনে ছুটে যেতেন এবং দ্রুত চলাচলের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করতেন।
এই পদক্ষেপের ফলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় পাশের হার ৪৪ শতাংশের কিছু বেশি ছিল, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে তার কিছু কর্মকাণ্ড সমালোচনারও শিকার হয়েছিল।
নতুন দায়িত্ব ও সংবাদ সম্মেলন
বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলন বলেন, 'নকল ও প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না। অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল; এবারও তা নিশ্চিত করা হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিলন বলেন, 'অতীতে কে-কী করেছে, তার জবাবদিহি আমরা দেবো না। তবে আমাদের বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি হয়নি এবং এবারও হবে না।'
শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা
মিলন শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- কারিকুলাম পর্যালোচনা ও আধুনিকীকরণ
- ডিজিটাল লিটারেসি ও ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী ন্যানো টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধি
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ লেখাপড়া শেষে কর্মসংস্থান, তার আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সাজানো হবে। ব্যাকডেটেড শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এগোনো যাবে না।'
সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তিগত তথ্য
মিলনের শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার খবর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী কৌতুকপূর্ণ স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন, যেমন 'বাচ্চারা পড়তে বসো, এখন আবার শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন'।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মোট ৩২টি মামলার মধ্যে ১৩টি বিচারাধীন ও ১৯টি থেকে খালাস পেয়েছেন।
এবার একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। শিক্ষাখাতে নতুন এই দলটি কীভাবে পরিবর্তন আনে, তা এখন দেখার বিষয়।
