সদ্য দায়িত্ব নেওয়া শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মব করে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা অটো পাশ নেওয়ার মতো ঘটনা কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দ্বিতীয় কার্যদিবসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এসব কেনো হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা পুরোনো গল্পে যাব না। তবে আমাদের যেই ভিশন-মিশন সেটা ইশতাহারে ছিল। আজকে আমাদের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী লিখিতভাবে আবারও সেটা পড়ে শোনালেন। আমরা সেটাকে সামনে রেখে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করব। ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের যে সকল ডিপার্টমেন্ট আছে সেগুলোকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি।’
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে আশ্বাস
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র হয়ে গিয়েছে, সেটা ডিস্ট্রিবিউশনে যেন কোনো সমস্যা না হয় এবং পরীক্ষা নিয়ে যেন কোনো ঝামেলা না হয় সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। পরবর্তীতে আমরা আরো ব্যাপক আলোচনায় যাব।’
শিক্ষকদের প্রতি বার্তা
শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দাবি-দাওয়া যা আসে, আমরা তা দেখব। রাজপথ দখল করে কোনো দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রয়োজন নেই। আমরা বুঝি কোনটা দিতে হবে, কোনটা দিতে হবে না। আমরা তাদের পক্ষেই থাকি, কেননা, তারা তো মানুষ গড়ার কারিগর। আমি আশা করি, তারা আমাদের মেসেজ পেয়ে গেছে এবং পেয়ে যাবে এবং সেভাবেই তারা কাজ করবে।’
কারিকুলাম রিভিউ ও অতীত অভিজ্ঞতা
বিদ্যমান কারিকুলাম থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আমরা কারিকুলাম রিভিউ করবো, যেখানে যা পরিমার্জন করা প্রয়োজন সেটা করবো। এখানে আমাদের এনসিটিবির এক্সপার্ট যারা আছেন তাদের মধ্যে কিছুটা সমন্বয় সাধনের বিষয় আছে। সেটা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’
একই মন্ত্রণালয়ে আবারও দায়িত্বপালন করা নিয়ে আহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ সালে যখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন বরিশাল বোর্ড বানিয়েছিলাম। সেটার প্রধান করেছিলাম একটি পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপালকে। তখন বিসিএস শিক্ষা প্রশাসনের নেতারা এসে বলল যে, আমি নাকি ট্রেডিশন ব্রেক করেছি। অর্থাৎ সরকারি শিক্ষকের মধ্য থেকে নিতে হবে, এটা ট্রেডিশন, বাট দ্যাটস নট এ রুল।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে কেউ বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ করতে পারেনি। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাকি দশটা মন্ত্রণালয়ের মতো না।’
শিক্ষামন্ত্রী মিলনের এই ঘোষণা শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
