রোজা ও ঈদে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পবিত্র রমজান মাসে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্কুলের ছুটির তালিকা সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়, যা পূর্বের অনিশ্চয়তা দূর করেছে।
ছুটির নতুন সূচি ও সময়কাল
নতুন সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরু হচ্ছে। এই ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন। ফলে রোজা ও ঈদ মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিরতি হিসেবে কাজ করবে।
পূর্বের অনিশ্চয়তা ও আদেশের ইতিহাস
এর আগে রোজার পুরো মাস স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এতে স্কুল খোলা না বন্ধ—এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকায় সেই অনিশ্চয়তা দূর হলো, যা একটি স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির অবস্থা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে এর আগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। গত সোমবার থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে, মাদরাসাগুলোতে নির্বাচনি ছুটির মধ্য দিয়েই ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। মাদরাসার বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, তাদের ছুটি চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। কলেজ পর্যায়েও ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। কলেজের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ক্লাস পুনরায় শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ। ফলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও রোজা ও ঈদ ঘিরে শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি প্রশান্তিদায়ক সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
