শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি নিষিদ্ধ, লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তির ঘোষণা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একবার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উঠলেও পুনঃভর্তি ফি নেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালার মূল বিধানসমূহ
নীতিমালার আয় ব্যবস্থাপনা অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনও অবস্থাতেই পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তর, ২০২৪ সালের টিউশন ফি নীতিমালা অনুযায়ী টিউশন ফি আদায় করতে পারবে।
লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান
নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিমালার ১৪ অনুচ্ছেদে শাস্তির বিধানগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং এটি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
- এমপিও স্থগিত বা বরখাস্তের মতো শাস্তি আরোপ করা যেতে পারে।
- পরিচালনা কমিটি, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২) মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, “কোনও প্রতিষ্ঠান নীতিমালা লঙ্ঘন করলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। একবার কোনও ক্লাসে ভর্তি হলে পরবর্তী ক্লাসে উঠলেও শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি নিতে পারবে না। কেউ নিলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নীতিমালার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
এই নীতিমালাটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে এবং শিক্ষা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিমালা অনুসারে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং যেকোনও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও সুযোগের সমতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
