শিক্ষামন্ত্রী মিলনের জোর দাবি: জিডিপির ৫-৬% বরাদ্দ চাই, অগ্রাধিকার ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব
শিক্ষামন্ত্রী মিলন: জিডিপির ৫-৬% বরাদ্দ চাই, অগ্রাধিকার জরুরি

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবিতে নতুন শিক্ষামন্ত্রী

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর জোর দিয়ে বলেছেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, নতুবা দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কখনোই অর্জন করা সম্ভব হবে না। মন্ত্রী তার প্রথম দিনেই শিক্ষা বাজেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়।

জিডিপির তুলনায় নগণ্য বাজেট বরাদ্দ

মিলন স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম। তিনি বলেন, "আমাদের প্রথমে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। সেটা স্পষ্ট হলে বরাদ্দ বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে অনুসরণ করবে।" তার মতে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ছাড়া বাজেট বণ্টনে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, "রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার দিকে সরকারের নজর দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দেওয়া হয়, সেটা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।"

প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে মিলন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেট নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম। তিনি মন্তব্য করেন, "শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন—এটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না।" অতীতে এই খাতে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি বলে শিক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ২% এর কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা তার মতে ৫% বা ৬% এ উন্নীত করা অত্যাবশ্যক

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ

জাতীয় শিক্ষাক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গে মিলন বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা প্রায়শই আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে হতে হবে। স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও নকল প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, তার লক্ষ্য হলো শিক্ষাব্যবস্থাকে কার্যকর ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। তিনি বলেন, "আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন স্তরে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে উন্নত দেশগুলো আমাদের শিক্ষা ও গবেষণাকে মূল্য দেবে।"

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষার উন্নয়ন

মিলন আরো যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। মন্ত্রীর ভাষায়, "অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি 'হাস্যকর অবস্থা' থেকে উন্নত মানে নিয়ে যেতে হবে।"

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের শিক্ষানীতি ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাখাতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়।