বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন শিক্ষানীতি ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নীতিতে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে।
নতুন শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্য
নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান ও গণিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাধ্যমিক স্তরে বাধ্যতামূলক শিক্ষা নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
উচ্চশিক্ষায় পরিবর্তন
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চার বছরের স্নাতক কোর্সের পাশাপাশি তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হবে। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন শিক্ষানীতিতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ
নীতিতে ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অনলাইনে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “এই শিক্ষানীতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করবে। আমরা আশা করছি এটি বাস্তবায়নে সবাই সহযোগিতা করবেন।”
নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নিয়মকানুন প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কিছু সংস্কার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।



