শিক্ষা বাজেট বাড়াতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি, প্রাক-বাজেট আলোচনায় গুরুত্বারোপ
শিক্ষা বাজেট বাড়াতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির জোরালো দাবি উঠল প্রাক-বাজেট আলোচনায়

গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘শিক্ষার বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বাজেট বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা শিক্ষা খাতের নানা চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় এখনো সবচেয়ে কমগুলোর একটি। বর্তমান শিক্ষার মান দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করাই কঠিন, আন্তর্জাতিক মানের তো ধারেকাছেও নেই। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে অন্তত জিডিপির আড়াই শতাংশ, তিন বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে বরাদ্দ উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখার আহ্বান

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘শিক্ষা খাতের বাজেটকে কেবল বরাদ্দ হিসেবে দেখা যাবে না, বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষা অগ্রাধিকারে ছিল না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অগ্রাধিকারের আশ্বাস

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) আসন্ন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘আগামী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—এগুলো প্রাধান্য পাবে। আবারও বলি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’ প্রতিমন্ত্রী আরও স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের শিক্ষার মান পিছিয়ে আছে এবং এটি দিয়ে দেশের চাহিদাই পূরণ করা যাবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সংস্কার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে এবং ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই।...এটা করব ধাপে ধাপে।’ বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষাক্রমকে দুই আঙ্গিকে সাজানো হবে: খেলতে খেলতে শেখা এবং গল্প বলার মাধ্যমে শেখা। তিনি কোচিং ও গাইড বই নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক মনজুর আহমদ সামগ্রিক শিক্ষা খাত নিয়ে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের শিক্ষা উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া শিক্ষা খাতে অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন বাড়ানোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

২১ দফা দাবি উপস্থাপন

গণসাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতে বর্তমান বাজেট পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় এবং ২১ ধরনের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • শিক্ষা খাতের জন্য ‘এডুকেশন সেস (সারচার্জ)’ চালু করা।
  • উপবৃত্তি বাড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীপ্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা, নিম্নমাধ্যমিকে মাসে ৭০০ টাকা এবং মাধ্যমিক ও তার ওপরের শ্রেণিতে মাসে ১ হাজার টাকা করা।
  • শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, নোট বই, গাইড বই, কোচিং–বাণিজ্যসহ সব ধরনের অশুভ তৎপরতা মোকাবিলা।
  • বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য যথাযথ বিনিয়োগ করা।
  • কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া।

গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুর রউফ এই দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং বাজেট বরাদ্দে এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।