কুষ্টিয়ার এসএসসি পরীক্ষায় বড় ভুল: ১৭ শিক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া
কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় ১৭ শিক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র

কুষ্টিয়ার এসএসসি পরীক্ষায় বড় ধরনের প্রশ্নপত্র বিভ্রাট

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় অবস্থিত সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে একটি গুরুতর অনিয়ম ঘটেছে। বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় মোট ১৭ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাসের (অনিয়মিত) প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এই ঘটনাটি পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর ধরা পড়ে এবং তখন নিয়মিত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তবে, নষ্ট হওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

এই বিভ্রাটের কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রসচিব ইয়ার আলী এবং দুজন কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ইউএনও অনিন্দ্য গুহ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরগুলো যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

উপজেলা প্রশাসন, পরীক্ষার্থী এবং অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা এই ভুলটি বুঝতে পেরে পরিদর্শকদের অবগত করেন। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও, নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিনিময়ে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে, তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা

ঘটনা জানামাত্রই ইউএনও অনিন্দ্য গুহ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্রসচিব ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। কেন্দ্রসচিব ইয়ার আলী ঘটনাটিকে অসাবধানতাবশত একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ

১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে চরম অবিচার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর কাছে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টা ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করেছে।

এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থায় নজরদারি ও প্রশাসনিক ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন বিভ্রাট এড়াতে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।