জামালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ, শতাধিক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ
জামালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি গত বছরের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে শতাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা সবাই জামালপুরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই কলেজকেন্দ্রে আজ এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত গত বছরের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।

পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ

পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বের হওয়ার পর প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে দেখে বুঝতে পারি—ওপরে “২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী” লেখা আছে। তখনই বুঝতে পারি, এটি আমাদের প্রশ্নপত্র নয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। আমি এই তিন ঘণ্টার পরীক্ষার জন্য টানা দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের একটি ভুলের কারণে যদি আমার এ-প্লাস হাতছাড়া হয়, তার দায় কে নেবে?’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘সারা দেশের পরীক্ষার্থীরা একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেও আমরা প্রায় ১০০ জন ভিন্ন একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছি। এখন পরীক্ষা কেমন হয়েছে, সেটা আমাদের মূল চিন্তা নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—আমরা শেষ পর্যন্ত পাস করব কি না, আর পাস করলেও এ-প্লাস পাব কি না। কর্তৃপক্ষের এই ভুলের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যক্ষের বক্তব্য

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে যে প্রশ্নপত্র আসে, সেগুলোতে ২০টি প্রশ্নপত্রে একটি বান্ডিল হয়। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য যে ৫টি বান্ডিল খোলা হয়, সেসবের প্রতিটি বান্ডিলের ওপরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা ছিল। কিন্তু ভেতরে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকেরা বান্ডিল খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায়, যাঁরা মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই প্রশ্ন ছিল।’

সমাধানের উদ্যোগ

অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বোর্ড থেকে ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে বলা হয়েছে। তাঁদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে ও ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী দেখা হবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।’