অধ্যক্ষের অবহেলায় বাঘার ৩৯ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামানের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জনের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফরম পূরণের অর্থ নেওয়া সত্ত্বেও কাজ অসম্পূর্ণ
শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোট ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজনের ফরম পূরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৯ জনের ফরম পূরণ করা হয়নি, যাদের মধ্যে ৩৪ জনের ক্ষেত্রে নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করা হয়নি। বাকি চার জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আদায় করা হলেও অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামান সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষার এত নিকটবর্তী সময়ে এসে এই দুঃসংবাদ পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েছেন।
অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা বোর্ডের পদক্ষেপ
কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "আসলে আমারও একটু ইয়ে হয়েছে, আর অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল, বার বার জিজ্ঞাসা করার পরও সে আমার কাছে অস্বীকার করে। আমাকে বলেছে বলে যে— হয়ে গেছে। আমি ঝামেলায় থাকার কারণে দেখতে পারিনি। গতকাল কলেজ পরিদর্শক এবং চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কাল ফরমগুলো পূরণ করে জমা দিলেই রেজিস্ট্রশন ও ফরম পূরণ শেষ হয়ে যাবে।"
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক মো. শামীম হাসান জানান, অধ্যক্ষ গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বোর্ডে এসেছিলেন কিন্তু হার্ড কপি নিয়ে আসেননি। তিনি বলেন, "এখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা আমরা আগে করবো। তারপর অধ্যক্ষকে শো-কজ করা হবে, চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের প্রথম দায়িত্ব এখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।"
অধ্যক্ষের পূর্বের অনিয়মের ইতিহাস
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি একবার অবৈধ সুবিধা নিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে একজন জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য শিক্ষক প্যাটার্ন জমা দিয়েছিলেন। জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতির পর পদবঞ্চিত সিনিয়র শিক্ষক মামলা করার পর সেই পদোন্নতি বাতিল হয়।
অধ্যক্ষের এই তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলেও তাকে শো-কজ করা হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের তৎকালীন মহাপরিচালকের কাছে মুচলেকা দিয়ে তিনি মাফ পান। এছাড়া বিভিন্ন সময় কলেজের শিক্ষকরাও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
এসএসসি পরীক্ষা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অধ্যক্ষের এমন দায়িত্বহীনতা শুধু ৩৯ জন শিক্ষার্থীর এক বছরের শ্রম ও প্রস্তুতিই নষ্ট করছে না, তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। শিক্ষা বোর্ড এখন জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও, সময়ের স্বল্পতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উন্মোচন করেছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সমাধান পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।



