গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাবের ৬০ বছর: বিজ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল অধ্যায়
বাংলাদেশে স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চার এক গৌরবময় মাইলফলক হিসেবে চলতি বছর উদযাপিত হচ্ছে গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাবের ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার ঘটনা। ছয় দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় ক্লাবটি নবীন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে স্বীকৃত।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রতিষ্ঠার গল্প
১৯৫৭ সালে এই স্কুলেই প্রথম বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৬৬-৬৭ সালে দ্য সায়েন্স ক্লাব গঠনের মাধ্যমে। আজ সেই ক্লাব গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাব নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘ সময়ে ক্লাবটি শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের বিজ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ করে দিয়েছে, যা তাদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞানমেলার সম্প্রসারণ ও প্রভাব
১৯৮৩-৮৪ সালে যখন বিজ্ঞানমেলা ক্লাবের অধীনে আসে, তখন এর পরিধি আরও বেড়ে যায় এবং এটি খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার এক বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। এই ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রকল্প ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক দিকগুলো শিখতে পেরেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে সহায়ক হয়েছে।
ষাট বছর পূর্তি উদযাপন ও বিশেষ বিজ্ঞানমেলা
ষাট বছরের এই পথচলা উদযাপন করতে আগামী ১১ এপ্রিল, শনিবার বসছে বিশেষ বিজ্ঞানমেলা। এই মেলায় বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নেবেন প্রাক্তন গ্রেগরিয়ানরাও, যা এক ঐতিহাসিক মিলনমেলার সৃষ্টি করবে। মেধা ও সৃজনশীলতার এই ধারা নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানের পথে চলতে আরও উৎসাহ দেবে এবং বিজ্ঞানচর্চার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।
গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাবের এই যাত্রা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার প্রসারে এক মডেল হিসেবে কাজ করছে। আগামী দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের তরুণ প্রজন্ম আরও উদ্ভাবনী ও বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।



