চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা-কাঁচা কলা সরবরাহ, শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত
আনোয়ারায় স্কুল ফিডিংয়ে পচা কলা, শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা-কাঁচা কলা সরবরাহ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে খাওয়ার অযোগ্য পচা ও কাঁচা কলা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন স্কুলে বিস্কুটের পাশাপাশি এই কলা পাঠানো হলে, অধিকাংশ বিদ্যালয় তা ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্কুলগুলোর প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর গড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্কুলে বিস্কুট ও কলা পাঠায়। তবে এসব কলার বেশিরভাগই ছিল কাঁচা ও পচা অবস্থায়। স্কুলপ্রধানরা কলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে, প্রায় সব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু বিস্কুট পেয়েছে। পচা ও কাঁচা কলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায়, এই কর্মসূচি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

একজন শিক্ষক জানান, ‘প্রথম দিন বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়েছিল। পরদিন দুধ আর বানরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু বানরুটি দেওয়া হয়। আজ কাঁচা ও নষ্ট কলা আর বিস্কুট দেওয়া হয়, যা খাওয়ার উপযোগী নয়।’ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, এর আগেও প্রথম দিনে আনোয়ারা উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩১টিতে খাবার পাঠানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় দিন সোমবার দুধ সরবরাহ না করা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মসূচির নির্দেশনা ও বাস্তবতা

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র অনুসারে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করে গত রোববার থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, রোববার ১২০ গ্রাম ওজনের বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম, সোমবার বানরুটি ও ২০০ গ্রাম তরল দুধ, মঙ্গলবার ৭৫ গ্রাম বিস্কুট ও ১০০ গ্রাম ওজনের স্থানীয় মৌসুমি ফল বা কলা, বুধ ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও ডিম দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। চারটি উপাদানের মধ্যে দুটি প্রতিদিন দিতে হবে।

গুয়াপঞ্চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা পচা কলা নিইনি। স্যাররাও নিতে নিষেধ করেছেন।’ এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির প্রতি উদাসীনতা প্রকাশ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশপল্লি’ নামে সংস্থার সমন্বয়ক শমসের নাহিদ দাবি করেন, আগে পাঠানো স্কুলগুলোতে ভালো মানের কলা পেলেও শুধু ৮-১০টি স্কুলে পাঠানো কলা নষ্ট ছিল। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে এসব কলা সংগ্রহ করায় এ সমস্যা হয়। আশা করছি পরে এমন সমস্যা আর হবে না।’

আনোয়ারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হিন্দোল বারী জানান, ‘পচা ও কাঁচা কলা পাওয়ার পর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা আমাকে জানালে আমি এসব ফেরত দিতে বলি। এ নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’ তিনি এই অনিয়মের তদন্ত ও সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এই ঘটনা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির গুণগত মান ও তদারকির ঘাটতি তুলে ধরেছে, যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।