টানা বর্ষণে রাজধানীর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকাও জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। কুয়েত মৈত্রী হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল ও সড়কে পানি জমে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত
জলাবদ্ধতার কারণে ক্লাস, পরীক্ষা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা আজ রোববার জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে একাধিক তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ডাকসুর জিএস সাদিক কায়েমের ফেসবুক স্ট্যাটাস
ডাকসুর জিএস সাদিক কায়েম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে কুয়েত মৈত্রী হল ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে চারটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ভ্যানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সেবা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ট্রিপও বাড়ানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে পারেন।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে ডাকসুর উদ্যোগে জেনারেটরের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় মোমবাতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
পানি নিষ্কাশন ও পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্টেট অফিস এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট টিমকে মাঠে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে ডাকসু। একই সঙ্গে চলমান জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ
এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার সহযোগিতায় দুই গাড়ি বিশুদ্ধ পানিও ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থায়ী সমাধানের অভাব নিয়ে ডাকসুর ক্ষোভ
ডাকসু নেতারা বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্থায়ী পানি নিষ্কাশন এবং একটি কার্যকর জলাব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নেই।
ডাকসুর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে
ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



