শিক্ষক সংকটে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত
দেশের ৫৫ শতাংশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৩টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৯টি পদও খালি রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য।
শিক্ষা প্রশাসনেও নেতৃত্ব সংকট
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা শুধু শিক্ষক সংকটেই ভুগছে না, শিক্ষা প্রশাসনেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মাউশির ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালকের ১০টি পদই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ৬৪টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদের মধ্যে ২৩টি শূন্য। বিদ্যালয় পরিদর্শকের ১৬টি পদের সবকটিই খালি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের চিত্র
২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে প্রতি ৩০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গড়ে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ভেদে পরিস্থিতি আরও সঙিন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঢাকা ও নেত্রকোনার দুটি বিদ্যালয়ের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষক সংকট প্রকট।
শিক্ষক সংকটের প্রভাব
মাধ্যমিক শিক্ষা মূলত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একজন শিক্ষককে দিনে ছয়-সাতটি ক্লাস নিতে হচ্ছে, ফলে কার্যকর পাঠদানের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন অর্জন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—প্রতিটি স্তরে অবহেলা ও দীনতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ওপর। শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের শিখন-ঘাটতি নিয়ে ওপরের শ্রেণিতে উঠছে এবং ঝরে পড়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেও তারা কর্মক্ষেত্রের উপযোগী মানবসম্পদ হয়ে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সমাধানের পথ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতেই হবে। সরকারকে অবশ্যই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিক্ষক সংকটে পাঠদান বাধাগ্রস্ত হলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।



