সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট নিরসনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংগীতশিক্ষকদের ক্লাস্টার আকারে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে 'কালচার' ও 'স্পোর্টস' এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও 'টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন' বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগীতশিক্ষক নিয়োগের পটভূমি
২০২৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় মোট ৫ হাজার ১৬৬ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়। এর মধ্যে সংগীতে ২ হাজার ৫৮৩ ও শারীরিক শিক্ষায় ২ হাজার ৫৮৩ জন নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫'-এর মাধ্যমে এ সুযোগ রাখে।
কিন্তু ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিরোধিতায় দুই মাসের মাথায় বিধিমালা সংশোধন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় শুধু প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ রাখা হয়।
বর্তমান পরিকল্পনা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, 'আসলে শিক্ষক নেই। এ জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় তাদের যে সংগীতশিক্ষক রয়েছেন, তাঁরা ক্লাস্টার করে উপজেলাপর্যায়ে সহযোগিতা করবেন। ভবিষ্যতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।'
তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভায় সংগীতশিক্ষক নিয়োগে 'অসম্মতি' দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংস্কৃতি ও সংগীত বিভাগ চালু হলে সেখান থেকে শিক্ষক পাওয়া যাবে।
প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান চিত্র
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজারের বেশি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ। শিক্ষকের সংখ্যা পৌনে চার লাখের মতো। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সংগীতে আলাদা পাঠ্যপুস্তক নেই; শিক্ষক নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়ন হয়।
প্রাথমিক স্তরে মোট ১৩টি গান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 'আমার সোনার বাংলা', 'রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম', 'চল চল চল' প্রভৃতি। শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ খুব বেশি কার্যকর নয়।



