সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চণ্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের বারান্দা ও প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা
বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়, যেখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। এই তিনটি কক্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন ছয় জন। তবে এর মধ্যে এক জন চিকিৎসার জন্য ছুটিতে আছেন, আরেক জন ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে রয়েছেন। ফলে চার জন শিক্ষককে সব ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষকদের বক্তব্য
সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়টিতে তিনটি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষের অভাবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের বারান্দা ও অফিস কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদানে ছাত্ররা অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষকরাও বসে থাকেন আবার শিক্ষার্থীরাও বসে থাকে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে।'
অপর সহকারী শিক্ষক ফাতেমা খাতুন বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের সংকটের জন্য বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। এতে কষ্ট হচ্ছে। সরকার যদি বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিশুরা ভালোভাবে পাঠদান করতে পারত।'
প্রধান শিক্ষকের মতামত
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কার মিয়া জানান, 'বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ক্লাস নিতে হয় অফিস-কক্ষে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় করানো হচ্ছে পাঠদান। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চার জন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাঠ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।'
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।'



