বগুড়ার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্কুলের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে তিন শিক্ষার্থীকে ‘জুতার মালা’ পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা লাগিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষে ঘোরানোর ঘটনায় তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় আদেশ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আদেশে বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হবে।
তদন্তের পর ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিভাগীয় উপপরিচালক ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। পরে তিনি আইন অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খায়। এতে ক্ষুব্ধ হন প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা। পরদিন বিকালে তিনি চতুর্থ শ্রেণির দুই জন ও পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। আম চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাদের গলায় জুতা ও স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে এবং ‘আমি আম চোর’ লেখা কাগজ শরীরে আটকিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরান। প্রধান শিক্ষিকার এই কাজে কয়েকজন শিক্ষকও সহযোগিতা করেন।
অভিভাবকদের ক্ষোভ
ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের ক্ষোভের মুখে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তারা সন্তুষ্ট না হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তদন্ত কমিটি
বিষয়টি জানার পর বগুড়া সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবির গত ৩ মে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটির প্রধান গোলাম কবির গত মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য নেন। বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। অন্য শিক্ষকরা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন।
প্রতিক্রিয়া
ফোন বন্ধ রাখায় এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য নিতে পারেননি প্রতিবেদক। অন্য শিক্ষকরাও অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর পরপরই বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আদেশে প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার পরপরই ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক জনস্বার্থে ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এরপর তিনি (উপপরিচালক) তদন্ত করে স্থায়ী বরখাস্ত ও অন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।



