গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার (২ মে) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন ছেড়ে দ্রুত বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নেয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভবনের ফাটল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ভবনটির দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এর মধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এবং ভবন দুর্বল হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে ভবন ছেড়ে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নেয় শিক্ষার্থীরা।
বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনা করে কয়েক মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈনুল হক একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। ওই বরাদ্দের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রকৌশলী প্রকল্প প্রস্তুত করেন। তবে এরই মধ্যে ইউএনও বদলি হওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের ক্ষোভ
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুজন অভিভাবক জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এমন একটি জরুরি বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
শিক্ষকের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, ‘আজ দুপুরে ঝড় শুরু হতেই আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত ওয়াস ব্লকে সরিয়ে নিই। ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে ক্লাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আগের ইউএনও রুম নির্মাণের বরাদ্দ দেন। সেই অনুযায়ী কাজের এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইউএনও বদলি হতেই বরাদ্দ বাতিল করে দেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শফিউল আজম। পরবর্তী আমরা রুম নির্মাণের জন্য তার কাছে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই সময়ে ক্লাসরুম নির্মাণ হলে আজ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না আমাদের।’
বর্তমান ইউএনও’র প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেনইবা টিনশেড ঘর নির্মাণের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবো আমরা।’



