আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে দেশের স্বনামধন্য পেপার মিলগুলোর সঙ্গে প্রিন্টারদের আনুষ্ঠানিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে কাগজ মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাগজ সংকটের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর পাঠ্যবই ছাপানোর শেষ সময়ে কাগজ সংকট ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ ওঠে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তারা সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন, নির্ধারিত বাজারমূল্যে এবং নির্ধারিত জিএসএম (গ্রামেজ) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহ করবেন।
এনসিটিবির প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর প্রস্তুতি
তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। পেপার মিল মালিকরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই বই বিতরণের লক্ষ্যে তারা সরকার ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
লিখিত চুক্তি ও দায়িত্ব নির্ধারণ
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রেস মালিক ও পেপার মিল মালিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই অনেক সময় কাগজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তাই এবার উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত চুক্তি করা হবে। ওই চুক্তিতে কোন পেপার মিল থেকে কত মেট্রিক টন কাগজ, কী মানের এবং কত গ্রামেজের কাগজ নেওয়া হচ্ছে—এসব তথ্য উল্লেখ থাকবে।
তিনি বলেন, কে কোথায় ত্রুটি করছেন, সেটি আমরা শনাক্ত করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবারও সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কাজে কেউ অনিয়ম বা গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রেস মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক
মন্ত্রী আরও জানান, শিগগিরই প্রেস মালিকদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করা হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজারে কাগজের দাম এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করতে চাইলে তারা সরেজমিনে পেপার মিল পরিদর্শন করতে পারেন।
পেপার মিল মালিকদের প্রতিশ্রুতি
এদিকে বৈঠকে উপস্থিত পেপার মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, পাঠ্যবইয়ের কাগজের স্পেসিফিকেশন নির্ধারণে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা ন্যায্য দামে ভালো মানের কাগজ সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসময় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানের বই তৈরি করতে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তারা।



