প্রতিবছর বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ঘিরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সিন্ডিকেটের ভিত্তি বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি। এ সমিতি ঘিরে বই ছাপানোর কাজ ভাগ-বাটোয়ারা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মুদ্রণ শিল্প সমিতিকে ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভায় তিনি মুদ্রণ শিল্প সমিতি ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ছাপাখানা মালিকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন (মুদ্রণ শিল্প সমিতি) আমরা ভেঙে দিতে পারতাম। আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন আপনারা কাকে দিয়ে করবেন, চালাবেন- এটা আপনাদের ব্যাপার। আমরা সেখানে অবৈধ হস্তক্ষেপ কখনো করতে যাব না। তবে আমরা কাজ ঠিকঠাক না পেলে ছেড়েও কথা বলব না।'
কাজের গুণগত মান নিয়ে কঠোর নির্দেশ
তিনি বলেন, 'আমরা একজন আরেক জনের চোখে আঙুল দিয়ে কথা বলব এটা তেমন নয়। একজন আরেক জনের পরিপূরক হব। আমরা সরকারে আছি বলে থ্রেট করব না। থ্রেট করে কখনো দামানো যায় না, এটা সম্ভব না। তবে নজরদারি করব। সে দায়িত্ব আমাদের জনগণ দিয়েছে।'
এহছানুল হক মিলন বলেন, 'পাঠ্যবই এমনভাবে ছাপাতে হবে, ছবিগুলো সুন্দর হতে হবে। শিশুরা দেখে যেন আনন্দ পায়। এটি আমরা কেন পারব না? এটা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। অনেকে আমার কিছু কথায় আহত হয়েছেন। কিন্তু পাঠ্যবই নিয়ে এটি করতে হবে।'
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা চাই না কোনো ছাপাখানা মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে কাজের মান যদি ঠিক না থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে বই ছাপানোর ওপর জোর দেন।



