টেকনাফের শিশু ছিদ্দিক: স্কুলের পাশাপাশি দোকানের কাজ করে সংসার চালায়
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া চেকপোস্ট এলাকায় একটি ছোট মুদির দোকান। সেখানে পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত ১১ বছরের শিশু মোহাম্মদ ছিদ্দিক। সে দমদমিয়া আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বয়সের অন্য শিশুরা যখন বিকেলে খেলাধুলায় মত্ত থাকে, ছিদ্দিক তখন স্কুল থেকে ফিরে সংসারের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
অভাবের সংসারে শিশুর সংগ্রাম
ছিদ্দিকের বাবা মোহাম্মদ আয়ুব একজন দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারে ছিদ্দিক সবার বড়। বাবা যখন দিনমজুরি করতে বাইরে যান, তখন ছিদ্দিককে সামলাতে হয় রাস্তার ধারের ছোট চা-পানের দোকানটি। স্কুল থেকে ফিরে এক মুহূর্ত বিশ্রাম না নিয়ে সে দোকানের কাজে লেগে পড়ে। এটাই তার প্রতিদিনের রুটিন।
ছিদ্দিক জানায়, ‘আমাদের এই গ্রামে স্কুলটা না থাকলে আমার এবং আমার ভাই-বোনদের পড়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত। দূরে গিয়ে পড়ার মতো আমার বাবার টাকা ছিল না।’ প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত এই স্কুলটি তার শিক্ষার পথ বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।
পারিবারিক আবেগ ও কৃতজ্ঞতা
ছেলের এমন পরিশ্রমে আবেগাপ্লুত ছিদ্দিকের মা আমিনা খাতুন। আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘কষ্ট করি সংসার চলে দিনমজুরের টাকা দিয়ে। বাচ্চাটা স্কুল থেকে এসেই ছেলেটা দোকানে বসে আমাদের সাহায্য করে।’ বাবা মোহাম্মদ আয়ুব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। আপনারা আমাদের বাচ্চাগুলোকে মানুষ করছেন, এ জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ যেন এই মহৎ কাজগুলো যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখেন।’
স্বপ্ন ও লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলা
ছিদ্দিক কেবল পড়াশোনা আর দোকানের কাজই করছে না, তার চোখে রয়েছে আগামীর স্বপ্ন। সে বড় হয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হতে চায়। অভাবের কাছে হার না মেনে মানুষের মতো মানুষ হওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এই সংগ্রামী শিশুর গল্প টেকনাফের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দমদমিয়া আলোর পাঠশালার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করছে। ছিদ্দিকের মতো অসংখ্য শিশু এখন স্বপ্ন দেখতে শিখছে, সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার আলোয় নিজেদের আলোকিত করছে।



